লিওনেল মেসি Messi Argentina

লিওনেল আন্দ্রেস “লিও” মেসি জন্ম: ২৪ জুন ১৯৮৭) একজন আর্জেন্টাইন পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড় যিনি স্পেনের সর্বোচ্চ স্তরের পেশাদার ফুটবল প্রতিযোগিতা লা লিগা তে ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেন। তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এবং বার্সেলোনার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


ব্যক্তিগত তথ্য.

পূর্ণ নাম.লিওনেল আন্দ্রেস মেসি

জন্ম.২৪ জুন ১৯৮৭ (বয়স ৩৩)

জন্ম স্থান.রোসারিও,আর্জেন্টিনা

উচ্চতা.১.৭০ মিটার (৫ ফুট ৭ ইঞ্চি)


বর্তমান ক্লাব.বার্সেলোনা জার্সি নম্বর ১০ ।


লিওনেল মেসি টানা চারবারসহ মোট ছয়বার বালোঁ দর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর পাশাপাশি তিনি সর্বোচ্চ ছয়বার ইউরোপীয় গোল্ডেন শু জয়েরও কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর পেশাদার ফুটবল জীবনের পুরোটাই কেটেছে বার্সেলোনায়, যেখানে তিনি ১০টি লা লিগা, ৪টি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ এবং ৬টি কোপা দেল রেসহ মোট ৩৩টি শিরোপা জয় করেছেন, যা বার্সেলোনার ইতিহাসে কোন খেলোয়াড়ের পক্ষে সর্বোচ্চ। এছাড়াও একজন অসাধারণ গোলদাতা হিসেবে মেসির দখলে রয়েছে লা লিগায় সর্বোচ্চ সংখ্যক গোল ৪৪০, লা লিগা ও ইউরোপের যেকোনো লীগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল ৫০, ইউরোপে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল৭৩ এক পঞ্জিকাবর্ষে সর্বোচ্চ গোল, এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল এবং লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লীগে (৮) সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকের কৃতিত্ব। পাশাপাশি মেসি একজন সৃষ্টিশীল প্লেমেকার হিসেবেও পরিচিত। তিনি লা লিগা এবং কোপা আমেরিকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর কৃতিত্বেরও মালিক। জাতীয় দল এবং ক্লাবের হয়ে তিনি ৭০০ এর অধিক পেশাদার গোল করেছেন।


খেলার তথ্য.

মেসি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে তিনি আর্জেনটিনাকে ২০০৫ ফিফা ইয়ুথ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে সাহায্য করেন যে প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলম্পিকে আর্জেন্টিনার হয়ে ফুটবলে স্বর্ণপদক জয় করেন। ২০০৫ সালের অগাস্টে তার আর্জেন্টিনা জাতীয় দল এ তার অভিষেক হয়। ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপ এ গোল করার মধ্য দিয়ে তিনি সর্বকনিষ্ঠ আর্জেন্টাইন হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০০৭ কোপা আমেরিকায় তিনি সেরা যুব খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন। ওই আসরে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। ২০১১ সালের আগস্টে তিনি আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কে হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অধিনায়ক হিসেবে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে টানা তিনটি প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলেছেন: ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ, ২০১৫ কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ কোপা আমেরিকা। তিনি ২০১৪ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল পুরস্কার জয় করেন। ২০১৮ সালে মেসি জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তবে কয়েক মাস পরেই তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে পুনরায় জাতীয় দলে ফিরে আসেন এবং ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ খেলায় তিন গোল করে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন। ২০১৮ বিশ্বকাপ ও ২০১৯ কোপা আমেরিকায় তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন।


জীবনী.

১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের (growth hormone) সমস্যা ধরা পড়ে। স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিৎসা খরচ বহন করতে অপারগ ছিল। এ চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার।[৭] বার্সেলোনার তৎকালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাস মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন। তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন। হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন। বার্সেলোনা মেসির চিকিত্‍সার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজি হয়। এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান। সেখানে মেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়া'র সভ্য করে নেয়া হয়।


২০০৮ সাল থেকে মেসি আন্তনেলা রোকুজ্জোর সাথে বসবাস শুরু করেন। তাদের দুটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, ২ নভেম্বর ২০১২ তারিখে থিয়াগোর আর ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তে জন্ম নেয় মাতেও। ২০১৭ সালের ১ জুলাই মহা ধুমধামে তাদের বিবাহ হয়।


বার্সেলোনা.

লা লিগা (১০): ২০০৪–০৫, ২০০৫–০৬, ২০০৮–০৯, ২০০৯–১০, ২০১০–১১, ২০১২–১৩, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯

কোপা দেল রে (৬): ২০০৮–০৯, ২০১১–১২, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮; রানার-আপ ২০১০–১১, ২০১৩-১৪

স্পেনীয় সুপার কাপ (৮): ২০০৫, ২০০৬, ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১৩, ২০১৬, ২০১৮; রানার-আপ ২০১২, ২০১৫


রানার-আপ.

ফিফা বিশ্বকাপ: ২০১৪

কোপা আমেরিকা: ২০০৭

কোপা আমেরিকা: ২০১৫

কোপা আমেরিকা: ২০১৬

তৃতীয় অবস্থান:২০২০


পুরস্কার.

সবোচ্চ ফিফা ব্যালন ডি অর পুরস্কার: ৬ (২০০৯-১২, ২০১৫, ২০১৯)

এক বছরে সর্বোচ্চ গোলের জন্য গিনেস বিশ্ব রেকর্ড পুরস্কার: ৯১ গোল (২০১২ সালে)

এক বছরে সব ক্লাব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৭৯ গোল (২০১২ সালে)

এক মৌসুমে সব ক্লাব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৭৩ গোল (২০১১-১২ মৌসুমে)

ঘরোয়া লিগে টানা সর্বোচ্চ খেলায় গোল: ২১ ম্যাচে ৩৩ গোল (২০১১-১২ মৌসুমে)

প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এক ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোল: ৬৪৪ গোল

ফিফা ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তি: ১৪ বার (২০০৭-২০২০) (ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সাথে যৌথভাবে)


উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ সর্বোচ্চ গোলদাতা (৪): ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ বর্ষসেরা ফরোয়ার্ড (১): ২০০৯। ২০১০ সাল থেকে নিবৃত।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল ম্যান অব দ্য ম্যাচ (১): ২০১১।

এল’ইকুইপে চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়নস (১): ২০১১।

ফিফা অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ প্রতিযোগীতার সেরা খেলোয়াড় (১): ২০০৫।

ফিফা অনূর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ সর্বোচ্চ গোলদাতা (১): ২০০৫।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ স্বর্ণ গোলক (২): ২০০৯, ২০১১।


সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হয়েছে.

পরবর্তি তথ্য পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন ধন্যবাদ.......


Post a Comment

Previous Post Next Post