সার্টিফিকেটে নাম সংশোধন করার নিয়ম ২০২১
লেখাপড়া করে শিক্ষা অর্জন করার পাশাপাশি আমাদের যোগ্যতার ক্ষেত্রে সার্টিফিকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি থেকে শুরু করে সব কাজই সার্টিফিকেট ব্যবহার করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়নি সার্টিফিকেট এর তথ্য ভুল হয়ে যায়। যার কারণে আমাদের চাকরির অন্যান্য ক্ষেত্রে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়। আচ্ছা আপনাদের সাথে আলোচনা করবো কি করে সার্টিফিকেট নিজের নাম,পিতার নাম, মাতার নাম পরিবর্তন করবেন। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন থেকেই আমার সার্টিফিকেটে ভুল ছিল, কিন্তু তখন বুঝতাম না। এসএসসি পাস করার পর যখন সার্টিফিকেট হাতে পেলাম তখন কপালে হাত। তখন দেখি আমার পিতার নাম ভূল।সংশোধনের জন্য স্কুলে অনেক ঘোরাঘুরি করলাম কিন্তু কোনো সমাধান পেলাম না।অনেক চেষ্টার পর একটা শিক্ষা পেলাম আমাদের স্কুলে তার সাহায্য নিয়ে কাজ শুরু করে দিলাম।
প্রথম ধাপ:
কিভাবে সার্টিফিকেট এর নাম পরিবর্তন করবেন.
সার্টিফিকেটের নাম পরিবর্তন করার জন্য আপনি যে শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পড়াশোনা করেন, সে শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হবে। যদি আপনি নিজে নিজে আবেদন করতে পারেন তাহলে করবেন, আর যদি না পারেন যেকোনো অনলাইনে দোকান থেকে করবেন।
আবেদন করার পর আবেদন ফরম ডাউনলোড করবেন। সেটি অনেকগুলো ফটোকপি করে রাখবেন। তারপর সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আবেদনের ফি বাবদ প্রত্যেক সার্টিফিকেট ও মার্কশিট এর জন্য 958 টাকা করে ফি জমা দিতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর সেই রশিদ এর ফটোকপি, আপনার সার্টিফিকেটের ফটোকপি, পিতা মাতার ভোটার আইডি কার্ড ফটোকপি, আপনার জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি, শিক্ষা বোর্ডের নাম সংশোধন বিভাগে জমা দিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপঃ
এরপর আবেদনের দুই মাস অথবা ছয় মাসের মধ্যে আবেদনের সময় যে নাম্বার দিয়েছিলেন। সেই নাম্বারে একটি মেসেজ যাবে। মেসেজে কী লেখা থাকবে সেটি নিচে দেখুন।
Uuuuuমেসেজে যে তারিখ দেওয়া থাকবে, সেই তারিখে বোর্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। বোর্ড একটি মিটিং হবে। সেই মিটিং এর মাধ্যমে আপনার সার্টিফিকেটে নাম পরিবর্তন হবে।বলে রাখা ভালো যদি আপনার সার্টিফিকেটে নামের একটি দুটি অক্ষর ভুল হয় তাহলে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে না। আর যদি পুরো নাম পরিবর্তন হয় তাহলে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। মিটিং এর আগে আপনাকে মেসেজ দিয়ে বলে দেবে কি কি কাগজ সাথে আনতে হবে।
তৃতীয় ধাপ:
মিটিংয়ে যদি আপনার কাগজপত্র ঠিক থাকে তাহলে আপনাকে কনফার্ম করে দিবে। আর যদি ঠিক না থাকে পরবর্তী মিটিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মিটিং এর কনফার্ম হওয়ার পর 7 থেকে 8 দিন পর বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনি আগে যে আবেদন করছিলেন সেই, আবেদনপত্রে একটি সোনালী নাম্বার দেওয়া থাকবে। নাম্বার সার্চ করে আপনাকে দেখতে হবে আপনার কাজটা হয়েছে কিনা, তারপর কাজ হয়ে থাকলে সে কপি সংগ্রহ করবেন। তারপর ওই সংশোধন কপিসহ অরিজিনাল সার্টিফিকেট নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে জমা দিতে হবে। কিরকম কপি হবে নিচে দেখুন
চতুর্থ ধাপঃ
তারপর এক মাস অপেক্ষা করার পর, বোর্ডে গিয়ে রশিদ নিয়ে যোগাযোগ করবেন। তারা চেক করে দেখবে সার্টিফিকেট তৈরি হয়েছে কিনা। যদি হয়ে থাকে সাথে সাথে আপনাকে সার্টিফিকেট প্রদান করবে। যে সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আপনি যদি না বুঝে থাকেন, তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার শিক্ষকের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা করতে পারবেন। সকল তথ্য ও ভালোভাবে জানতে আপনার অধীন শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করুন
পোস্টটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য....
ধন্যবাদ.......



Post a Comment