আজকের বিষয়ঃ কম্পিউটার অজানা সকল তথ্যয বিস্তারিত ভাবে জানা। কম্পিউটার কি? কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে? কম্পিউটারের কয়টি অংশ? ইত্যাদি এসকল বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কম্পিউটার সম্পর্কেকে জানতে পুরো পোস্টট সম্পূর্ণভাবে পড়তে হবে।
কম্পিউটারের পরিচিতি:
কম্পিউটার হচ্ছে এমন একটি যন্ত্র যা নির্দিষ্ট নিয়মে ডেটা গ্রহণ এবং নির্দেশ অনুযায়ী তা প্রক্রিয়াকরণ করে। প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল নির্দিষ্ট নিয়মে তথ্য আকারে সরবরাহ করে বা সিগন্যালের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্য কোন মেশিন পরিচালনা বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় প্রয়ােগ হতে পারে। বর্তমানে সচরাচর আমরা যে কম্পিউটার দেখি তার যাবতীয় কাজকর্ম পরিচালিত হয় ইলেকট্রন (অর্থাৎ বিদ্যুৎ) প্রবাহের সাহায্যে সংখ্যার (Digit) মাধ্যমে ডাটাকে প্রক্রিয়া করে। এ জন্য এদের ইলেকট্রনিক ডিজিটাল কম্পিউটার বলা হয়।
মাইক্রোকম্পিউটার বা পারসােনাল কম্পিউটার (PC) হচ্ছে বর্তমানে প্রচলিত সবচেয়ে ছােট ধরণের বহুল ব্যবহৃত কম্পিউটার। একটি সম্পূর্ণ পারসােনাল কম্পিউটার সিস্টেমে রয়েছে মাইক্রোপ্রসেসর এবং আনুষঙ্গিক কিছু যন্ত্রাংশ, প্রাইমারী স্মৃতি ভান্ডার (storage) ইনপুট/আউটপুট সার্কিটযুক্ত এক বা একাধিক সার্কিট বাের্ড, ইনপুট/আউটপুট এবং সেকেন্ডারী ষ্টোরেজ ডিভাইসসমূহ। এই সমস্ত যন্ত্র বা যন্ত্রাংশগুলােকে এবং কম্পিউটারের যা কিছু ধরা বা ছোঁয়া যায় তাদেরকে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার (hardware) বলা হয়। আর কম্পিউটার পরিচালনা বা তাকে ব্যবহারযােগ্য করার জন্য ব্যবহৃত সকল প্রােগ্রামকে (যা একগুচ্ছ ধারাবাহিক নির্দেশ) সফটওয়্যার বলে। নীচে পারসােনাল কমপিউটারের প্রধান প্রধান হার্ডওয়্যারেরসংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হলাে।
(১) ইনপুট ডিভাইস:
মাইক্রোকম্পিউটারে ডেটা বা প্রােগ্রাম প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রথমে ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে মানুষের বােধগম্য অক্ষর, সংখ্যা বা নির্দেশকে কম্পিউটার স্মৃতিতে পৌছে দেয়া হয় যা ইনপুট নামে পরিচিত। কম্পিউটার এ তথ্য বা নির্দেশকে তার বােধগম্য ভাষা বাইনারী কোডে পরিবর্তিত করে নেয়। বাইনারি পদ্ধতিতে সংখ্যাকে কেবল মাত্র দুটি রাশি বা ডিজিট ০, ১ দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এ দুটি ডিজিটের এক একটিকে বিট (Bit) বলে। বিট হলো Binary Digit এর সংক্ষিপ্ত। আটটি বিটের একত্রিত ইউনিটকে বাইট (Byte) বলা হয়। ১৮৫৪ সালে জর্জবুলি নামের একজন ইংরেজ গণিতবিদ এই বাইনারী পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। বাইনারি কোডে পরিবর্তন করার পর তা ডিজিটাল ইলেট্রিক্যাল সিগন্যালের মাধ্যমে প্রাইমারী স্মৃতিে পাঠানাে হয়। সেখানে থেকে এগুলো প্রয়ােজন মত কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে ব্যবহৃত হয়। ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে চালকের সাথে কম্পিউটারের সরাসরি যােগাযােগ স্থাপিত হয়। ইনপুট ডিভাইসসমূহের মধ্যে কীবাের্ড, মাউস, জষ্টিক অপটিক্যাল স্ক্যানার, ও লাইটপেন উল্লেখযােগ্য। ফ্লপি ডিস্ক এবং হার্ডডিস্কও কম্পিউটারে অনেক সময় ইনপুট ডিভাইস হিসাবে কাজ করে।
কী-বাের্ডঃ
কম্পিউটারে সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত ইনপুট ডিভাইস হচ্ছে কী-বাের্ড। টাইপ রাইটারের প্রথম অর্ধাংশের মত দেখতে এবং কীগুলাে প্রায় একই রকমে সাজানাে। এই কী-বাের্ডের চাবিগুলাে বিশেষ ধরণের ইলেকট্রনিক সুইচের কাজ করে। প্রতিটি কী চাপলে একটি বিশেষ ক্যারেক্টার বা স্টেটমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট একসারি ডিজিটাল বৈদ্যুতিক স্পন্দন তৈরী করে প্রাইমারী স্টোরেজে পাঠিয়ে দেয়। ক্যারেক্টার হচ্ছে যে কোন একটি বর্ণ, রাশি, যতি চিহ্ন বা বিশেষ চিহ্ন যেমন - #, &, > ইত্যাদি। প্রােগ্রাম লিখিত যে কোন নিদের্শকে ষ্টেটমেন্ট বলে। আধুনিক কী-বাের্ডে বর্ণমালার কী-সমুহ এবং স্পেসবার ছাড়াও সচরাচর নিম্নলিখিত কীসমুহ থাকে।
নিউমেরিক কীঃ
এই কী সমূহে চাপ দিয়ে ০ থেকে ৯ পর্যন্ত রাশির ডিজিটাল বৈদ্যুতিক স্পন্দন পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে এগুলাে প্রধান কী-বাের্ডের ডানদিকে, কী প্যাড হিসাবে থাকে। এবং এদেরকে কোন দীর্ঘ গাণিতিক রাশিমালা বা ডাটা এন্ট্রির কাজে সহজে ব্যবহার করা হয়।
কার্সর নিয়ন্ত্রক কীঃ
মনিটরের যে জায়গায় কম্পিউটার নতুন ক্যারেক্টার ফুটিয়ে তুলবে অর্থাৎ যে জায়গায় নতুন এন্ট্রি হবে সেই স্থান চিহ্নিতকারী ক্রমাগত জ্বলতে নিভতে থাকা ছােট আলােক চিহ্নকে কার্সর বলে। কার্সর নিয়ন্ত্রক কী চেপে কার্সরকে ইচ্ছে মত যে কোন দিকে সরানাে যায়।
ফাংশন কীঃ
যে সমস্ত কী চেপে বিশেষ বিশেষ স্টেটমেন্ট/নির্দেশ দেয়া যায় তাকে ফাংশন কী বলে।
ব্যাকস্পেস কীঃ
যে কী দিয়ে কার্সরের বাঁ দিকের লেখা মুছে ফেলা যায় কার্সরকে বাঁ দিকে নেয়া যায় ব্যাকস্পেস কী বলে।
এন্টার বা রিটার্ণ কীঃ
পরবর্তী প্যারাগ্রাফে যেতে বা কোন নির্দেশ কার্যকর করার আদেশ দিতে এই কী ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় একাধিক কী একসাথে বা পর পর চেপেও বিশেষ বিশেষ কাজের নির্দেশ দেয়া যায়।
মাউসঃ
ছােট্ট এই ইলেকট্রনিক যন্ত্রটি কম্পিউটারে সংযুক্ত থাকলে তা টেবিল বা যে কোন সমতল জায়গায় রেখে ইচ্ছেমত বিভিন্ন দিকে সরিয়ে কার্সরকে ইচ্ছেমত চালানাে যায় বা স্ক্রীনে বর্ণিত কোন কাজ বেছে নিয়ে কম্পিউটারকে কোন আদেশ দেওয়া যায়।
অপটিক্যাল স্ক্যানারঃ
এটা ব্যবহার করে যে কোন মুদ্রিত অংশ বা ছবি ডিজিটাল সিগন্যালে পরিবর্তিত করে প্রাইমারী ষ্টোরেজে পাঠানাে যায় এবং সেকেণ্ডারী ষ্টোরেজে ধারণ করে তা পরবর্তীতে ইচ্ছেমত পরিবর্তন/পরিবর্ধন করে ব্যবহার করা যায়।
লাইট পেনঃ
এটা ব্যবহার করে স্পর্শের সাহায্যে কম্পিউটারের মনিটরে দর্শনীয় অংশকে সহজে অল্প সময়ে ইচ্ছে মাফিক পরিবর্তন করা যায়।
সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট (CPU) সিপিইউ কম্পিউটারের প্রধান অংশ। এতে একটি সার্কিট বোর্ড থাকে যাতে প্রধান মাইক্রোপ্রসেসর, অতিরিক্ত মাইক্রো প্রসেসর (যেমন- ইনপুট-আউটপুট ডিভাইসের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণকারী মাইক্রো-প্রসেসর), অন্যান্য সক্রিয় উপাদান ও চিপসমূহ, বাস বা হাইওয়ে নামক সংযােগ মাধ্যমের সাহায্যে পরস্পর সংযুক্ত থাকে। কম্পিউটারে কোন যন্ত্রাংশ থেকে অন্য যন্ত্রাংশে পরস্পরের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকেত আদান-প্রদানের মাধ্যমকে বাস বা হাইওয়ে বলে। এটি একগুচ্ছ তারের সমষ্টি বা কম্পিউটারের চিপে অতি সূক্ষ সুপরিবাহী রেখাসমুহ। কম্পিউটারে ডেটা প্রক্রিয়াকরণ, নির্দেশ পালন এবং অন্যান্য সমুদয় অংশের কার্যাবলী নিয়ন্ত্রিত হয় এই সিপিইউ-এর মাধ্যমে। সিপিইউ তে তিনটি প্রধান অংশ থাকে। যথা -
১. এরিথম্যাটিক লজিক ইউনিট (ALU)
২. স্টোরেজ (Storage)
৩. কন্ট্রোল
ধন্যবাদ......

Post a Comment